
লক্ষ্মীপুরে বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদার দাবিতে প্রবাসী পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইতালি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বড় মেয়ে জুবাইদা গুলশান আরা মিলি লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর এলাকায় তাদের বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে প্রতিবেশী জহির উদ্দিন মাহমুদ ও তার ভাগিনা জোনায়েদ এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তার অভিযোগ, হামলায় তার মা শাহনাজ বেগম, চার বোনসহ পরিবারের ১৩ জন আহত হন। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলার সময় ঘরে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসময় হামলায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ দেবে যাওয়ায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শাহনাজ বেগম বলেন, “আমার স্বামী বিদেশে থাকেন। চার মেয়েকে নিয়ে আমি চরম আতঙ্কে রয়েছি। হামলাকারীরা আবারও আমাদের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুমাইয়া আক্তার, ইশরাত জাহান ইকরা মোল্লা, রাবেয়া মিথি, আকলিমা বেগম, জান্নাতুল ফেরদাউস ও কামাল হোসেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জহির উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সীমানা অতিক্রম করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করলে আমার ভাগিনা এতে বাধা দেয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমাদের পক্ষেরও একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।”
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।