
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং লবণাক্ততার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে খাল, বিল, নদী, পুকুরসহ প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হলেও অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে এসব জলাশয়ের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বৃষ্টির পানি ধারণ ও সংরক্ষণের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।
এই অবস্থায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৫ জুন ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে সব প্রাকৃতিক ও মুক্ত জলাশয় দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ দখল ও ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জলাশয়ের প্রাকৃতিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাধার পুনরুজ্জীবন এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার জন্য নদী, খাল, সরকারি পুকুর, দীঘি ও অন্যান্য মুক্ত জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ এখন শুধু পরিবেশগত প্রয়োজন নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার অপরিহার্য শর্ত।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের হেড অব ক্লাইমেট চেঞ্জ এম. এ. হাসানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্প প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, সাংবাদিক, ছাত্র ও যুব প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তাদের মধ্যে প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি নেয়ামত উল্লাহ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে জলাশয় ভরাট হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
আমরা ভোলা বাসীর সদস্য সচিব মীর মোশারফ হোসেন বলেন, গাছ কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হলেও তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
দৈনিক বাংলাদেশের আলো’র প্রতিনিধি হারুনুর রশীদ শিমুল অভিযোগ করেন, খাল ভরাট করে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং জলাশয় পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।
নারী নেত্রী নুরজাহান নিলা বলেন, ইটভাটার দূষণে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে।