
ময়মনসিংহের নান্দাইলে তিন দশকের পুরনো জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলীর মধ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে ২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকালে শওকত আলী বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আব্দুর রউফ তা ভেঙে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আব্দুর রউফ থানায় অভিযোগ করলে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুর রউফের সমর্থকরা শওকত আলীর ভাইয়ের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে দুই পক্ষের সমর্থকরা খারুয়া বাজারে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি, দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় আব্দুর রউফের মুদি দোকানেও হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আব্দুর রউফের ছেলে মাহফুজুর রহমান দাবি করেন, তাদের দোকান থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। অন্যদিকে শওকত আলী অভিযোগ করেন, তিনি বৈধভাবে নিজের জমিতে ঘর নির্মাণ করছিলেন, কিন্তু প্রতিপক্ষ সেটি ভেঙে দেয় এবং তার ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
খবর পেয়ে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) এবং র্যাব-১৪ এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’