
বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে যখন নতুন মেরুকরণের গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই বেইজিংয়ে মুখোমুখি হলেন ইরান ও চীনের শীর্ষ দুই কূটনীতিক। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
বুধবার (৬ মে) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার খবরটি নিশ্চিত করেছে।
সফরের তাৎপর্য ও আঞ্চলিক সমীকরণ
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে আরাগচির এই সফর অত্যন্ত অর্থবহ। বেইজিং পৌঁছানোর মাত্র সাত দিন আগেই তিনি মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। রাশিয়া থেকে সরাসরি চীনে তার এই ঝটিকা সফর বিশ্ব রাজনীতিতে তেহরান, মস্কো ও বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি বর্তমান অস্থিতিশীল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও চাপ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বেইজিং সফরের সময় বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীনকে এই বলে সতর্ক করেছেন যে, তারা যেন ইরানকে তাদের কর্মকাণ্ডের পরিণাম সম্পর্কে জানায়। রুবিওর মতে, ইরানের বর্তমান নীতিগুলো দেশটিকে ‘বিশ্বব্যাপী বিচ্ছিন্নতার’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সামনেই শি-ট্রাম্প সাক্ষাৎ
আরাগচির এই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী সপ্তাহে চীন সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বিশেষ বৈঠকের কথা রয়েছে। ট্রাম্পের সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং অবস্থানকে একটি কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং পরাশক্তিগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে আব্বাস আরাগচির এই সফর আগামী দিনের বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।