
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ এবার নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরাকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলগত ও কূটনৈতিক স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সংঘাতের এই সময়ে মার্কিন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৬০০ বারেরও বেশি আক্রমণ চালানো হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিএনএন এই চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশ করে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ধরন
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের মাটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস, ইউএস ডিপ্লোমেটিক সাপোর্ট সেন্টার এবং ইরবিলের কনস্যুলেটে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়। ইরানের পক্ষ থেকে আসা এসব সুশৃঙ্খল আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির ওপর বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নতুন হামলার আশঙ্কা ও সতর্কতা জারি
হামলার এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পাশাপাশি বাগদাদস্থ মার্কিন দূতাবাস নতুন করে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও নাগরিকদের ওপর পুনরায় বড় ধরনের হামলার ছক কষছে।
ইরাক সরকারকে কড়া বার্তা
মার্কিন সতর্কবার্তায় একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরাকি সরকারের সাথে সম্পৃক্ত কিছু পক্ষ সরাসরি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাজনৈতিক সমর্থন, অর্থায়ন এবং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ওয়াশিংটন বাগদাদকে এক কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরাক সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, "ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
ইরান ও মার্কিন এই ছায়াযুদ্ধের প্রভাবে ইরাকের স্থিতিশীলতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিক ও স্বার্থ রক্ষায় আগামীতে আরও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।