
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে র্যাব কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে, আর শুরু হয়েছে অভিযানের গতি। ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা মো. ইয়াসিনকে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। তাদের মধ্যে দুজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং একজন তদন্তে পাওয়া আসামি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা বলেন, “এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে সেখানে অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন নিহত হন এবং আরও চারজন আহত হন।
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্যে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে হাজারো অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের এই অঞ্চলের দখলকৃত জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। টিলা কেটে তৈরি করা এসব ঝুঁকিপূর্ণ বসতি দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে।
এই এলাকাকে ঘিরে বহু বছর ধরে সংঘর্ষ, হত্যা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চললেও প্রশাসনের অভিযান বারবার হামলার মুখে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সর্বশেষ গত সোমবারও সেখানে আরেকটি সহিংস ঘটনার সাক্ষী হয় এলাকাটি।