
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর ‘বট অ্যাকাউন্ট’ বা আইডিগুলোর প্রভাব বেশি শক্তিশালী কি না, এমন মন্তব্য শেয়ার করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই ও বিএনপি নেতা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। তিনি আতিক ইউ এ খানের একটি পর্যবেক্ষণ ফেসবুকে শেয়ার করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই পোস্টটি শেয়ার করেন স্নিগ্ধ।
আতিক ইউ এ খান লিখেছেন, সারাদিন ফেসবুকে সক্রিয় না থাকলেও মধ্যরাতে ঢুকে তিনি লক্ষ্য করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্য সংক্রান্ত সংবাদে বিপুল সংখ্যক ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড ক্যাম্পেইন’ সংক্রান্ত একটি খবরে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রিয়্যাক্টের মধ্যে ৭০ শতাংশই ‘হাহা’। এছাড়া কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা সংক্রান্ত সংবাদে ৪০ হাজার রিয়্যাক্টের মধ্যে ৬৫ শতাংশ ‘হাহা’ ছিল।
আতিক আরও জানান, বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের বক্তব্য সংক্রান্ত সংবাদেও অধিকাংশ প্রতিক্রিয়া ছিল ‘হাহা’ রিয়্যাক্ট।
তিনি বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানের ডিগ্রি নিয়ে সমালোচনা দেখা গেলেও, বিষয়টি যাচাই করে দেখা গেছে—ডিগ্রি ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ইনফার্টিলিটি বিষয়ে অর্জিত, যা ভুয়া নয়। তবে বিদেশি হওয়ায় বাংলাদেশে এটি অনুমোদিত নাও হতে পারে।
এসব পর্যবেক্ষণের আলোকে আতিক ইউ এ খান প্রশ্ন তুলেছেন, বিএনপির মিডিয়া সেল কি এতটাই দুর্বল, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের লাখ লাখ বট আইডি সক্রিয়? তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফেসবুক ও ইউটিউবসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জরিপে বিএনপি পিছিয়ে থাকলেও একটি জাতীয় দৈনিকের জরিপে দলটি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাঁর মতে, গ্রাম-গঞ্জে এখনও ধানের শীষ প্রতীকের জনপ্রিয়তা অনেক।
শেষে তিনি লিখেছেন, “সম্ভবত বিএনপি সমর্থকরা তুলনামূলকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সক্রিয়, তাই অনলাইনে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।”