
কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থাকার দশ দিনের মাথায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের এক সাবেক নেতা। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিনুল ইসলাম লিটন নামের ওই হাজতির মৃত্যু হয় বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ কারাগারের জেল সুপার রফিকুল ইসলাম এই মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে জানান। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
কে ছিলেন এই আমিনুল?
মৃত আমিনুল ইসলাম লিটন (৪৭) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের চরবেতকান্দি গ্রামের হাজী শামসুল আলমের সন্তান। তিনি স্থানীয় বেলতৈল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
মৃত্যুর কারণ ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য
কারা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই একটি মারামারি ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে আমিনুল ইসলাম লিটন সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন।
তাঁর শারীরিক অবস্থা ও মৃত্যুর বিবরণ দিয়ে জেল সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন:
“হাজতি আমিনুল ইসলাম লিটন ৫ জুলাই একটি মারামারি ও বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তিনি আগে থেকেই হার্ট ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।”
তিনি আরও জানান যে, মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ আমিনুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কারা চিকিৎসকদের পরামর্শে সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাঁকে দ্রুত সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মঙ্গলবার বিকেলেই নিহতের মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।