
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার নাম। ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের নায়ক হিসেবে পরিচিত এই ফুটবল কিংবদন্তি মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনার কারণেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত ছিলেন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ম্যারাডোনার রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান নতুন করে স্মরণ করছেন অনেক সমর্থক। আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর মারা গেলেও ফিলিস্তিনের প্রতি তার প্রকাশ্য সংহতির নানা বক্তব্য এখনও আলোচনায় রয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে ম্যারাডোনা নিজেকে ফিলিস্তিনের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ফিলিস্তিনের জনগণকে শ্রদ্ধা করি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করি। কোনো ভয় ছাড়াই আমি ফিলিস্তিনকে সমর্থন করি।’
২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পরও তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। সে সময় এক বিবৃতিতে ম্যারাডোনা বলেন, ‘ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যা করছে, তা লজ্জাজনক।’
২০১৮ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার মস্কোতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। আব্বাসকে আলিঙ্গন করে ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমার হৃদয়ে ফিলিস্তিন, আমিও একজন ফিলিস্তিনি।’ পরে সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছিল।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর ফিলিস্তিন থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়। হামাসের তৎকালীন মুখপাত্র সামি আবু জুহরি এক বার্তায় বলেন, ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজন মানুষকে বিশ্ব হারিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ম্যারাডোনার পরিবার ও ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ফিলিস্তিন ইস্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবিক বিষয়ে সরব ছিলেন ম্যারাডোনা। কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো, ভেনেজুয়েলার হুগো শ্যাভেজ ও বলিভিয়ার ইভো মোরালেসের মতো নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নীতির বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।
কিউবার প্রতি ম্যারাডোনার আবেগ ছিল সুপরিচিত। দীর্ঘ সময় দেশটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি এবং কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের শরীরে তার প্রতিকৃতি ট্যাটু করিয়েছিলেন।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নীতির কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত সামিট অব দ্য আমেরিকাসে বুশের কন্যা বারবারার সঙ্গে করমর্দনের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ম্যারাডোনা।
পরবর্তীতে তিনি ‘স্টপ বুশ’ কর্মসূচিতেও অংশ নেন এবং একাধিকবার বুশবিরোধী টি-শার্ট পরে জনসমক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেন।
মাঠে ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র জন্য যেমন ম্যারাডোনা স্মরণীয়, তেমনি মাঠের বাইরেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার প্রকাশ্য অবস্থান তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে সেই অধ্যায়ই আবারও সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা