
নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জালে উঠে এল এক ভারী ধাতব বস্তু। চকচকে সেই বস্তুকে মূল্যবান ‘গুপ্তধন’ ভেবে মহাখুশিতে সযত্নে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন এক জেলে। কিন্তু সেই আনন্দ আতঙ্কে রূপ নিতে বেশি সময় লাগেনি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করার সময় জেলের ছেলের বুদ্ধিমত্তায় উন্মোচিত হলো আসল সত্য—ওটি কোনো সম্পদ নয়, বরং একটি বোমা!
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার রাওথা-পিরোজপুর এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে অত্যন্ত বিপজ্জনক ওই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।
যেভাবে উদ্ধার হলো ‘গুপ্তধন’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো পদ্মা নদীতে মই জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে যান স্থানীয় জেলে সাইদার রহমান। জাল টানার একপর্যায়ে তিনি বেশ ভারী কিছু আটকে থাকার অনুভূতি পান। পানি থেকে জাল তুলতেই দেখা মেলে একটি ভারী ও প্রাচীন ধাতব বস্তুর। এটিকে প্রাচীনকালের কোনো মহামূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বা গুপ্তধন ভেবে সাইদার সোজা নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বাড়িতে এনে যখন তিনি ময়লা পরিষ্কার করছিলেন, তখন তাঁর ছেলে সাব্বির রহমানের মনে বিষয়টি নিয়ে খটকা লাগে। সাব্বির মোবাইল ফোনে বস্তুটির একটি ছবি তুলে ইন্টারনেটে সার্চ করেন। অনুসন্ধানে এটি কোনো বিপজ্জনক বোমা বা বিস্ফোরক হতে পারে বলে প্রবল সন্দেহ জাগে পরিবারের মনে। এরপর আর দেরি না করে তারা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে সাহায্য চান।
পুলিশ ও বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
খবর পাওয়া মাত্রই চারঘাট মডেল থানা পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মীরগঞ্জ বিওপির একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা দ্রুত পুরো বাড়ি ও আশপাশের এলাকাটি নিজেদের কর্ডনে নিয়ে নেয়। বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ধাতব বস্তুটি অত্যন্ত সাবধানে পানিভর্তি একটি বালতিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল টিমের বিশেষজ্ঞরা এসে নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের সাহায্যে তা ধ্বংস করেন।
এই অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা নিয়ে জেলে সাইদার রহমান বলেন:
“জাল তোলার পর দেখি ভারী লোহার মতো একটি বস্তু। প্রথমে ভেবেছিলাম নদীতে পাওয়া কোনো গুপ্তধন। পরে ছেলে ইন্টারনেটে দেখে জানায়, এটি বোমার মতো দেখতে। তখনই পুলিশকে খবর দিই। পরে বোম্ব ডিসপোজাল টিম এসে এটি নিষ্ক্রিয় করে। আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি।”
অভিযান সম্পর্কে চারঘাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিন বলেন:
“খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে নিরাপদে রাখে এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়। তারা এসে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে তা নিষ্ক্রিয় করে। এটি প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের বোমা তা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”