
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চলাকালীন সময়ে অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালেই ইরানি ভূখণ্ডে একাধিকবার সামরিক অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। দুই পশ্চিমা এবং দুই ইরানি কর্মকর্তার তথ্যের বরাতে বুধবার এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে আসে। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ইরানের মাটিতে রিয়াদের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো খবর প্রকাশ্যে এলো।
প্রথমবারের মতো সরাসরি সংঘাত
সূত্রমতে, গত মার্চ মাসে ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু গোপন অভিযান পরিচালনা করে সৌদি আরব। মূলত ইরানের পক্ষ থেকে আসা হামলার জবাব দিতেই রিয়াদ এই কঠোর পথ বেছে নেয়। যদিও ইরানের কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে বা স্থাপনায় এই আঘাত হানা হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত অস্পষ্ট। পশ্চিমা এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চের শেষ নাগাদ সৌদি আরব পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সরাসরি হুমকি প্রদান করে, যার ফলে পরবর্তীতে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের পথ প্রশস্ত হয়।
ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতির আগের ঘটনা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, তার রেশ ধরে ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তবে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার অন্তত এক সপ্তাহ আগেই রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যবর্তী উত্তেজনা কমে এসেছিল। যদিও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলতে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই আপাতত অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কেন এই পথ বেছে নিল রিয়াদ?
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরব এবারের ১০ সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধে নিজেদের অনেকটা অরক্ষিত মনে করেছে। মার্কিন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে ইরানি হামলার সক্ষমতা রিয়াদকে ভাবিয়ে তুলেছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে হামলা চালিয়েছিল। তবে সৌদি আরব বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে তেহরানের সঙ্গে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগও রক্ষা করে চলছিল।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, “এ অঞ্চল এবং জনগণের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে উত্তেজনা প্রশমন, সংযম ও উত্তেজনা কমানোর পক্ষে সৌদি আরবের ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি।”
সমঝোতার নেপথ্যে ‘ভয়াবহ পরিণতি’র শঙ্কা
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরব তাদের হামলার বিষয়টি ইরানকে আগেভাগেই অবহিত করেছিল। এরপর নিবিড় কূটনীতি এবং আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলার হুমকির মুখে দুই দেশ একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছায়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলী ভায়েজ এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “সৌদি আরবের এই পাল্টা হামলা এবং এরপর সমঝোতায় আসা এটাই প্রমাণ করে যে, উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের পরিণতি হবে ভয়াবহ।” তার মতে, এটি কোনো পারস্পরিক গভীর বিশ্বাস নয়, বরং আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল।
হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও একজন ইরানি কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বৈরিতা বন্ধ করে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।