
ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি চোটের সমস্যায়ও বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। মাথায় আঘাতের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে পারেননি মুমিনুল হক। তাঁর পরিবর্তে কনকাশন বদলি হিসেবে ব্যাট করতে নেমেছেন জাকের আলী অনিক। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, মাথায় আঘাত পাওয়ার পরবর্তী সাত দিন খেলতে পারবেন না মুমিনুল। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মুমিনুলের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পান মুমিনুল। পরে তাঁর মধ্যে কনকাশনের লক্ষণ দেখা দিলে ম্যাচের বাকি সময়ের জন্য জাকের আলীকে বদলি হিসেবে নেওয়া হয়।
এদিকে চোটের কারণে ঢাকা টেস্ট থেকে আগেই ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। লিটন দাসও খেলছেন চোট নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের একের পর এক চোটে বাংলাদেশের দলীয় ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও স্বস্তিতে নেই স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর ২৭২ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিক দল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৫৬ রান তুলতেই ছয় উইকেট হারায় দলটি।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই শামার জোসেফের বলে শূন্য রানে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। লেগ স্টাম্পে ফুল লেংথের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তিনি। দলীয় ১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলামের ব্যাটে লিড ৫০ ছাড়ায়। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে বিদায় নেন সাদমান ও তাওহীদ হৃদয়। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান ৩০ বলে ১৩ রান করে জাস্টিন গ্রিভস চেজের বলে বোল্ড হন।
পরের বলেই শামার জোসেফের হাতে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। ক্যারিবীয় বোলারদের চাপে ফেলতে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারান তিনি। প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করা হৃদয় এবার কোনো রানই করতে পারেননি।
সাদমান ও হৃদয়কে হারানোর পর এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারও আঘাত হানেন চেজ। তাঁর গুড লেংথের বলটি টার্ন না করে লেগ স্টাম্পের দিকে চলে যায়। ডিফেন্ড করতে গিয়ে ব্যাটে বল লাগাতে ব্যর্থ হন শান্ত। আম্পায়ার স্যাম নোগাজস্কি তাঁকে এলবিডব্লিউ দেন। রিভিউ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক। ৩৭ বলে ১০ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি এবং দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয়—দুই মিলিয়ে ঢাকা টেস্টে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।