
ফুটবল ইতিহাসের দুই অবিসংবাদিত মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্লাব ফুটবলের আঙিনায় অসংখ্যবার একে অপরের মুখোমুখি হলেও, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপে কখনো একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নামেননি। তবে বৈশ্বিক ফুটবলের কোটি কোটি ভক্তের দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ এবার ঘুচে যাওয়ার এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল দল কেমন পারফর্ম করছে, তার ওপর ভিত্তি করে অন্তত তিনটি ভিন্ন সমীকরণে একে অপরের মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই কিংবদন্তি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে মেসি ও রোনালদোকে আর একই মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যায়নি। বর্তমানে সম্পূর্ণ ভিন্ন মহাদেশ ও ভিন্ন লিগের ক্লাবে খেলার কারণে তাদের পারস্পরিক দ্বৈরথের সুযোগও ফুরিয়ে এসেছে। ফলে ফুটবল ইতিহাসের এই শেষলগ্নে এসে বিশ্বকাপই হয়ে উঠেছে তাদের লড়াই দেখার সবচেয়ে বড় এবং সম্ভাব্য শেষ মঞ্চ।
দুই মহাতারকার মুখোমুখি হওয়ার সেই তিন সমীকরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা: প্রথম সমীকরণ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে তারা নকআউট পর্বের একই পুলে (অংশে) জায়গা পাবে। এরপর দুই দলই যদি সফলভাবে রাউন্ড অব ৩২ এবং রাউন্ড অব ১৬-এর বাধা পার হতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা যাবে এই মেগা ম্যাচ।
রাউন্ড অব ১৬-এর মহালড়াই: দ্বিতীয় সমীকরণে, যদি কোনো কারণে দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপ পর্বের খেলা রানার্সআপ হিসেবে শেষ করে, তবে আরও আগেই তাদের দেখা হয়ে যাবে। এই হিসেব মিললে নকআউট পর্বের শুরুতেই অর্থাৎ রাউন্ড অব ১৬-তেই মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল।
স্বপ্নের মেগা ফাইনাল: আর তৃতীয় সম্ভাবনাটি সবচেয়ে রোমাঞ্চকর। যদি দুই দলের মধ্যে যেকোনো একটি দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং অন্য দলটি রানার্সআপ হয়, তবে তারা টুর্নামেন্টের সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি পুলে অবস্থান করবে। সেক্ষেত্রে ফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকবে না; অর্থাৎ কেবল শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চেই দেখা হতে পারে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর।
সব হিসাব-নিকাশ আর ভাগ্য যদি ঠিকঠাক মিলে যায়, তবে বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর তেমনটি ঘটলে, তা যে ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।