
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠছে ২৩তম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI) প্রতিরোধে বড় ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আয়োজক দুই দেশ—মেক্সিকো ও কানাডা।
বিশ্বকাপ চলাকালে মেক্সিকো সরকার আগত ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে কানাডাও নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপ-থিমভিত্তিক বিশেষ কনডম বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্ট উপলক্ষে লাখো বিদেশি দর্শনার্থীর আগমন প্রত্যাশা করছে মেক্সিকো। সেই প্রেক্ষাপটে সিফিলিস, গনোরিয়া ও এইচআইভি-সহ বিভিন্ন যৌনবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিমানবন্দর, স্টেডিয়াম, বার, রেস্তোরাঁ এবং বিনোদনকেন্দ্রে কনডম ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যপত্র বিতরণ করা হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর তিনটি ভেন্যুতে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী মেক্সিকো সিটি, জালিস্কো এবং মনতেরেতে ৩৯ দিনব্যাপী টুর্নামেন্ট চলাকালে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০ লাখ কনডম বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও প্রায় ২০ লাখ কনডম সরবরাহ করবে।
মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিশ্বকাপ স্বাস্থ্য পরিচালনা কমান্ড’-এর সদস্য রোকসানা ত্রেহো বলেন, “এই উদ্যোগ শুধু কনডম বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ যৌন আচরণ, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া। তথ্য ছাড়া কনডম দেওয়া মানে পকেটে শুধু একটি মিষ্টি তুলে দেওয়ার মতো।”
তিনি আরও জানান, ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মেক্সিকো সিটির জোকালো চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’-এও বিনামূল্যে কনডম বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া অসাবধানতাবশত কারও কনডম ছিঁড়ে গেলে তারা এসব কেন্দ্রে গিয়ে পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (পিইপি) চিকিৎসা নিতে পারবেন, যা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
এদিকে কানাডাও নিরাপদ যৌন আচরণে উৎসাহ দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। টরন্টো পাবলিক হেলথ (টিপিএইচ) তাদের ‘কনডমটু’ (CondomTO) কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপ-থিমের বিশেষ কনডম এবং অন্যান্য নিরাপদ যৌনস্বাস্থ্য সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করছে।
এসব সামগ্রী টিপিএইচ পরিচালিত চারটি যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকে পাওয়া যাচ্ছে। টরন্টো পাবলিক হেলথ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের সময় কনডম ব্যবহার করলে যৌনবাহিত ও রক্তবাহিত সংক্রমণ, এইচআইভি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক সংকোচ কমিয়ে মানুষকে যৌনস্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন করা।
এর আগে কাতার বিশ্বকাপে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আইনত নিষিদ্ধ থাকায় আয়োজকেরা এই ধরনের প্রচারণা প্রকাশ্যে করেননি। তবে উত্তর আমেরিকার মেক্সিকো ও কানাডায় বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।