
আমেরিকার বিমান হামলার জবাবে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ 'হরমুজ প্রণালি' সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একলাফে ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর মূল্য ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ৪০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই)-এর ক্রুড অয়েলের দাম ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি
ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তেলবাহী ট্যাংকারসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি এখন থেকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো জাহাজ যদি এই জলপথ অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তবে সেটির ওপর সরাসরি গুলি চালানো হবে বলেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান।
যে কারণে মুখোমুখি অবস্থানে দুই দেশ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বিমান বাহিনী ভয়াবহ হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, বুধবার গভীর রাতে ইরানের অব্যাহত ও অযৌক্তিক আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিতেই এই বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। অন্য দিকে ইরানও বসে থাকেনি; পাল্টা আঘাত হিসেবে তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এবং হরমুজ প্রণালিতে থাকা দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত:
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের অন্যতম ধমনী হিসেবে পরিচিত এই হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে। আর এর অবধারিত ফল হিসেবে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম আরও রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে।