
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা তুমুল আইনি লড়াই এবং দেশজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনার পর আজ চূড়ান্ত পরিণতি পেতে যাচ্ছে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত সেই মামলাটি।
আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণা করবেন বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আদালতের নথিপত্র এবং মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয়েছিল রাকিব হোসেনের। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। বাদীর অভিযোগ, রাকিবের সঙ্গে আইনগতভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন না করেই ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তামিমা। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নাসির ও তামিমার বিয়ের জমকালো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তামিমা ও নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন।
অবশ্য মামলার শুরু থেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছেন নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা দম্পতি। তাদের সাফ দাবি, দেশের প্রচলিত আইন মেনে আগের বৈবাহিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়েই তারা নতুন করে সংসার শুরু করেছেন।
রায় প্রসঙ্গে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান বলেন, ‘আমরা চাই, আসামিদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মামলার বিচার চলেছে। বিভিন্ন বিষয় চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে রিভিশন করেছে। ১০ জন সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’
আইনজীবী ইসরাত হাসান আরও যোগ করেন, ‘সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে আশা করছি। নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দুই ধারায় ও তামিমার বিরুদ্ধে তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর ও তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের আশা পজিটিভ। আসামিরা খালাস পাবেন আশা করছি। তারা কেন খালাস পাবেন যুক্তিতর্কে তুলে ধরেছি।’ রায় শোনার জন্য নাসির ও তামিমা আজ সশরীরে আদালতে উপস্থিত হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আশা করি, আসবেন।’
এদিকে নিজের অধিকার আদায়ের লড়াই শেষে মামলার বাদী রাকিব হোসেন তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, ন্যায় বিচার হোক। এ ধরনের কাজ যেন আর না হয়। রায়ের মাধ্যমে একটা ম্যানেজ যাক সমাজে। আমার সাথে যেমনটা ঘটেছে, যেন আর কারও সঙ্গে এমনটা না হয়।’
বহুল প্রতিক্ষিত এই রায় নিয়ে ক্রিকেটার নাসির হোসেনের ব্যক্তিগত মন্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।