
সাফল্যের চাকচিক্যের আড়ালে রিয়াল মাদ্রিদের অন্দরমহলে এখন বইছে অস্থিরতার ঝড়। স্প্যানিশ জায়ান্টদের ড্রেসিং রুমে শৃঙ্খলাভঙ্গের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দলের অভিজ্ঞ জার্মান ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারের বিরুদ্ধে। স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন 'অন্দা সেরো'র দাবি, রুডিগার তার তরুণ সতীর্থ আলভারো কারেরাসকে চড় মেরেছেন।
উত্তেজনার সূত্রপাত ও পুরনো রেষারেষি
ঘটনাটি মূলত দুই সপ্তাহ আগের। রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় বাগবিতণ্ডা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রুডিগার কারেরাসকে আঘাত করেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানায়। জানা গেছে, এই দুই ডিফেন্ডারের মধ্যে মাঠের বাইরে আগে থেকেই বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটি হয়েছিল, যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ওইদিন।
রুডিগারের আগ্রাসী আচরণ ও ক্ষমা প্রার্থনা
৩৩ বছর বয়সী রুডিগার তার খ্যাপাটে স্বভাবের কারণে ইদানীং বেশ সমালোচিত। চলতি মৌসুমে গেতাফের লেফটব্যাক দিয়েগো রিকোকে হাঁটু দিয়ে মাথায় আঘাত করা কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের জোসিপ স্তানিসিচের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য—সব মিলিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। তবে 'দ্য অ্যাথলেটিক' জানিয়েছে, চড় মারার ঘটনার পর রুডিগার নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। সতীর্থদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গত শুক্রবার তিনি পুরো দল ও তাদের পরিবারকে মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন।
সাইডবেঞ্চে কারেরাস ও কোচের সিদ্ধান্ত
ঘটনার পর থেকে দলীয় সমীকরণে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত দুই ম্যাচে (বেটিস ও এস্পানিওল) প্রথম একাদশে জায়গা পাননি কারেরাস। তার পরিবর্তে লেফটব্যাকে ফেরল্যান্ড মেন্ডিকে খেলিয়েছেন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। এমনকি মেন্ডি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে কারেরাসকে না নামিয়ে ফ্রান গার্সিয়াকে নামানো হয়। ডাগআউটে বসে থাকা কারেরাস তখন বিদ্রুপের হাসি হাসছিলেন বলে অনেক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে। অন্যদিকে, বিতর্ক সত্ত্বেও রুডিগার দুই ম্যাচেই পুরো সময় মাঠে ছিলেন।
রুডিগারের ভবিষ্যৎ
বিতর্ক ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থাকলেও রুডিগারের ওপর আস্থা হারাচ্ছে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এই গ্রীষ্মেই তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ তাকে আরও এক বছরের জন্য সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ড্রেসিং রুমের এই অদৃশ্য ফাটল কোচ আরবেলোয়া কীভাবে মেরামত করেন, এখন সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।