
শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিচিত গ্যালারিতে এবার যোগ হতে যাচ্ছে ভিন্ন এক আবহ। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য আলাদা একটি ঠিকানা গড়ে তুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যেখানে বসে পুরোনো সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডা, চা-কফির কাপে স্মৃতিচারণ আর খেলা দেখার সুযোগ থাকবে শুধুই জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের জন্য।
বিসিবির নতুন পরিকল্পনায় মিরপুর স্টেডিয়ামে নির্মাণ করা হবে বিশেষ ব্যালকনি ও লাউঞ্জ। ধারণাটি নেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে। তবে মিরপুরের এই আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার কথা ভাবছে বোর্ড।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা উদ্যোগে আলোচনায় থাকা বিসিবির অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ জন ক্রিকেটারের জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশের যে ১৭০-১৮০ জন (আন্তর্জাতিক) ক্রিকেটার খেলেছেন, তাদের জন্য একটা সুন্দর লাউঞ্জ বানিয়ে দিচ্ছি। সিটগুলোকে নিয়ে সংস্কার করে একটা সুন্দর ব্যালকনি হবে। বিশ্বের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে বড় ব্যালকনি থাকে, ব্যালকনিতে এসে বসে সাবেক ক্রিকেটাররা চা-কফি খায়। ওইরকম থাকবে।’
জানা গেছে, লাউঞ্জটিতে একসঙ্গে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকবে। এটি শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জন্যও সেখানে আলাদা অফিস রাখা হবে।
এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘ভেতরে লাউঞ্জ থাকবে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের জন্য। এটা শুধুমাত্র জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য থাকবে। এর সঙ্গে কোয়াবের একটা নিজস্ব অফিসও থাকবে। আমি যে কথাটা বলি, জাতীয় ক্রিকেটারদের ঘর এটা। আর ঘরে তো তাদের জন্য কোনো জায়গাও থাকতে হবে।’
ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ প্রবেশ কার্ড চালুর কথাও জানিয়েছেন তিনি। সেই কার্ডের মাধ্যমে সাবেক ও বর্তমান জাতীয় ক্রিকেটাররা লাউঞ্জসহ নির্ধারিত সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
তামিমের ভাষায়, ‘জাতীয় ক্রিকেটারদের আজীবনের জন্য এই জিনিসটা করছি। কাজের কয়েকটা কার্ড দিয়ে দেওয়া হবে এক্সেস, যেটা এখানে উনারা এক্সেস করতে পারবেন। উনারা ছাড়া কেউ এক্সেস করতে পারবেন না। প্লাস ওখানে যেটা আমি বলেছি যে কোয়াবের কিছু অফিসও এটার মধ্যে সেটআপ করা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অধিনায়কদের জন্য আমরা ক্যাপ্টেনস কার্ড করেছি, জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্যও এই জিনিসটা দিয়ে শুরু করলাম। অনেকেই দেখেছি যে (ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়ে) নাখোশ ছিলেন। তবে আমাকে তো একটু সময় দিতে হবে জিনিসগুলো করার জন্য।’