
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে নাটকীয়তা আর আদালতের দীর্ঘ লড়াই শেষে অবশেষে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি। সংরক্ষিত নারী আসনের এই নবনির্বাচিত সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের কার্যালয়ে এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
শপথ গ্রহণ ও আনুষ্ঠানিকতা
সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ নম্বর ধারা অনুসরণ করে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র সংবিধান ও সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শপথ নেওয়ার পর নুসরাত তাবাসসুম সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এই বিশেষ মুহূর্তে নবনির্বাচিত সদস্যের সাথে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিলম্ব ও উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ
নুসরাত তাবাসসুমের এই সংসদ সদস্য হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। গত ২১ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকেল ৪টা। তবে নুসরাত তার আবেদনপত্রটি জমা দেন বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে। মাত্র ১৯ মিনিট দেরি হওয়ার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে নুসরাত তাবাসসুম উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে আদালত ইসিকে নির্দেশ দেন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার। আদালতের সেই রায়ের প্রেক্ষিতেই পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
সেই আইনি জয়ের ধারাবাহিকতায় আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের আইনসভায় নিজের নাম লেখালেন। এর মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।