
রাজধানীর যানজটপূর্ণ সড়কে যখন ভিভিআইপি প্রটোকলের কারণে সাধারণ মানুষের অপেক্ষা করাই দস্তুর, ঠিক তখনই দেখা গেল এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী চিত্র। চিরাচরিত ভিভিআইপি সংস্কৃতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিজের চলন্ত গাড়িবহর থামিয়ে একটি জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে আগে যাওয়ার জায়গা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রটোকলের চেয়ে জনস্বার্থ ও মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই দৃষ্টান্ত পথচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই সকালে?
ঘটনাটি সকাল ৯টার কিছু সময় আগের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখন বনানী থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যখন কারওয়ান বাজার এফডিসি মোড় এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন বহরের ঠিক পেছনে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে সাইরেন বাজিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখেন তিনি।
জরুরি সেবার গাড়িটির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন অ্যাম্বুলেন্সটিকে পথ ছেড়ে দেওয়ার জন্য। নির্দেশের পরপরই প্রটোকল ভেঙে গাড়িগুলো একপাশে সরে দাঁড়ায় এবং অ্যাম্বুলেন্সটি নির্বিঘ্নে গন্তব্যে এগিয়ে যায়।
প্রটোকল বনাম জনসেবা
সাধারণত বাংলাদেশের সড়কে সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সাধারণ যানবাহন আটকে রাখা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান এই প্রথাগত রীতির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছেন। "সবার ওপরে জনগণ"—এই নীতিকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনার যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, বুধবারের ঘটনাটি তারই এক বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতিক্রিয়া
রাজপথের এই বিরল দৃশ্য দেখে উপস্থিত মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিভূত হন। তাদের মতে, পুরো বিষয়টি ছিল অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত। সাধারণত দেশের মানুষ ক্ষমতাশীলদের কাছ থেকে এ ধরনের সহমর্মিতা দেখতে অভ্যস্ত নয়। একজন সরকারপ্রধান যখন নিজেই অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন, তখন তা সাধারণ নাগরিকের প্রতি তার দায়িত্ববোধেরই বার্তা দেয়।
মানবিকতার এই দৃষ্টান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এক নতুন সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।