
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটাঙ্গনে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের জেরে আইসিসির কড়া অবস্থান এবং বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিশ্ব ক্রিকেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অলরাউন্ডার মদন লাল মনে করছেন, আইসিসির এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যৌক্তিক এবং এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।
বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দলের জন্য বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ এড়িয়ে যাওয়া ছিল মারাত্মক ভুল। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না গিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে। আপনি যদি এত বড় একটি ইভেন্ট মিস করেন, তবে আইসিসি কোনো না কোনো অবস্থান তো নেবেই। তারা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে একদম সঠিক কাজ করেছে।’
মদন লালের মতে, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু চলতি বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশকে এর খেসারত দিতে হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। কারণ, আইসিসি যদি আগামী বিশ্বকাপেও তাদের খেলতে না দেয়, তবে বাংলাদেশ বোর্ড সম্ভবত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এটি একটি বিশাল ক্ষতি এবং বর্তমান সময়ে খেলাধুলা মূলত বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই পরিচালিত হয়।’
আইসিসির বোর্ড সভায় ভোটাভুটির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মদন লাল বিসিবির কূটনৈতিক দুর্বলতার দিকেও ইঙ্গিত করেন। তাঁর দাবি, ‘যদি আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হতো, তবে তা অনেক ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত ছিল। ১৪টি ভোটের বিপরীতে আপনাদের পক্ষে মাত্র দুটি ভোট পড়েছে। মিটিংয়ের আগেই আপনাদের কিছুটা ধারণা নেওয়া উচিত ছিল যে আপনারা কতগুলো ভোট পাবেন। অন্তত ৫-১০টি ভোট পেলেও নাহয় একটি কথা ছিল।’
সাক্ষাৎকারে আরও একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন এই সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার। তাঁর ধারণা, বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পেছনে পাকিস্তানের প্রভাব থাকতে পারে। মদন লাল বলেন, ‘আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো যে পাকিস্তানও তাদের কিছুটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে। কারণ দেখুন, পাকিস্তান নিজে তো বিশ্বকাপ খেলছে, কিন্তু বাংলাদেশ খেলছে না।’
উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় শনিবার।