
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘিরে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় একাধিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) থেকে থাইল্যান্ডের তিনটি বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সময়ে নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত নেপালের অন্যান্য স্থলবন্দরেও এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গে দুইজন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। তাদের সংস্পর্শে আসা ১৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও সবার ফল নেগেটিভ এসেছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা সবাইকে শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়নি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভারতের বাইরে এখনো নিপাহ সংক্রমণের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি দেশ আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ফলে সংক্রমণে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
নিপাহ ভাইরাস কী, ছড়ায় যেভাবে ও লক্ষণ
নিপাহ ভাইরাস সাধারণত শূকর ও ফলখেকো বাদুড়ের মতো প্রাণী থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। দূষিত খাবারের মাধ্যমে এবং আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শেও এটি ছড়াতে পারে।
এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বমি ও গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। জটিল ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দেয়। কারও কারও ঘুমের সমস্যা ও নিউমোনিয়া হতে পারে। ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শূকর খামারিদের মধ্যে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়, পরে তা প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরে ছড়িয়ে পড়ে। যে গ্রামে প্রথম এ ভাইরাস ধরা পড়ে, সেখান থেকেই এর নামকরণ করা হয়।
বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে।
ভারতেও একাধিকবার নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে। ২০০১ ও ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে এর প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে সংক্রমণ বেড়েছে। ২০১৮ সালে সেখানে ১৯টি নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যার মধ্যে ১৭টিই ছিল প্রাণঘাতী। ২০২৩ সালে ছয়জন নিশ্চিত আক্রান্তের মধ্যে দুইজন মারা যান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কোভিড-১৯ ও জিকার মতো রোগজীবাণুর সঙ্গে নিপাহ ভাইরাসকেও শীর্ষ দশটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগের তালিকায় রেখেছে। কারণ, এ ভাইরাস ভবিষ্যতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখে।