
মায়েদের সম্মানকে জীবনের চেয়েও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো অপমানের চেষ্টা হলে চুপ করে বসে থাকা হবে না। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। আর যদি কেউ হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, ইনশা আল্লাহ আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না।’
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মণিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, যারা মায়ের গায়ে হাত তুলেছেন বা অপমান করেছেন, তারা যেন ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘যারা মায়ের গায়ে হাত বাড়িয়েছেন, অপমান করেছেন; ক্ষমা চান। আল্লাহ মাফ করে দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, মায়ের সন্তানেরা গর্জে উঠবে—এ কথা জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের মায়েদের মর্যাদা ইনশাআল্লাহ রক্ষা করবো।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে দুটি পথ খোলা আছে—একটি হলো নিজেকে বদলে মাকে সম্মান করা, আর অন্যটি হলো পরবর্তী পরিস্থিতির দায় নিজে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।
সামাজিক কাঠামো নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির বলেন, তারা না মাতৃতান্ত্রিকতা চান, না পিতৃতান্ত্রিকতা। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা একটা মানবিক সমাজ চাই।’ ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন বা বৈষম্যও তারা চান না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় ভোট বা দলের প্রতীক ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘দূর অতীতে আমাদের যাওয়ার দরকার নাই। যেদিন থেকে আল্লাহ মুক্তির ব্যবস্থা করে দিলেন ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল, সেদিন থেকে কার আমলনামা কেমন, কার দৃষ্টিভঙ্গি, চলাফেরা, কাজকর্ম, আচার-আচরণ কেমন, সেটা আপনাদের সবার সামনে পরিষ্কার।’ তিনি যোগ করেন, যাদের সুনীতির ওপর আস্থা রাখা যায়, ‘ইনশা আল্লাহ ১২ তারিখের ভোট তাদের পক্ষে হবে।’