
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মীরা সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে থেকেও সবসময় অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণই বিএনপির মূল রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মহাখালী টিভি গেট এলাকায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, "যখন শেখ হাসিনা তার প্রবল প্রতাপ দিয়ে বিরোধীদল নিশ্চিহ্ন করার কর্মসূচির ভিত্তিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যে, আমরা দলীয় বা এমনকি সামাজিক কোনো কাজও করতে পারতাম না। আমাদের সামাজিক সেবামূলক কাজগুলোতেও পুলিশ এসে বাধা দিত। কিন্তু তারপরও আমরা সেই কাজগুলো করে গেছি।"
তিনি আরও জানান, গত ১৫-১৬ বছরের শাসনামলে করোনা, বন্যা বা প্রচণ্ড শীতের সময় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগ বাদ যায়নি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, "সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এখনও করছি। যদিও হাসিনার পতন হয়েছে, তবুও সমাজের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তির কেউ কখনোই সরে যায়নি।"
ড্যাবের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক সংগঠনটি প্রতি বছর নানা সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বেচ্ছায় রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তা উল্লেখযোগ্য।
রিজভী বলেন, "বিএনপি ও তার আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের একটাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো, বড় বড় কথা বা ফাঁকা বক্তৃতা নয়, কাউকে হেয় করা নয়, ভিডিও ভাইরাল করে চরিত্র হনন নয়। আমরা এসব কখনোই করি না।"
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জনগণ বুঝতে পারে, কারা কুৎসা রটাচ্ছে বা ভিডিও ভাইরাল করছে। "বিএনপির ক্ষেত্রে এ সব দেখবেন না। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছে।"
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী সংগঠনগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান তিনি। "এটাই জাতীয়তাবাদী শক্তির বড় বৈশিষ্ট্য।"
রিজভী বলেন, "আমরা কারও প্রতি বিষোদগার করি না, কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাই না। আমরা বিশ্বাস করি; রাজনীতি মানেই সমাজসেবা, রাজনীতি মানেই মানুষের কল্যাণ সাধন।"
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আপনারা দেখেছেন দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি মেনেই অংশ নিচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা।"
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী ও আওয়ামী দুঃশাসনের প্রবল আক্রমণের মুখে তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আইনগতভাবে তার কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এবং তার বক্তব্য দেশের মানুষ পর্যন্ত পৌঁছানো আটকানো হয়েছিল।
রিজভী জানান, তারপরও তারেক রহমান প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখেছেন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবভিত্তিকভাবে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতির কথা রয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের উদ্যোগে এই কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব শামীম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, এবং ড্যাবের অন্যান্য নেতা ডা. গালিব, ডা. আকাশ, ডা. লাবিদ ও ডা. আফিফ।