
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর রাজশাহীতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর দুইটার দিকে তারেক রহমানের রাজশাহী আগমন উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। এতে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, রাজশাহী–২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান (মিনু), মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন–অর–রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান (রিটন)।
সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, “তারেক রহমানের রাজশাহী আগমনকে ঘিরে বিভাগের চার জেলায় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নেতা–কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁদের ভেতরে শোক কাজ করছিল, জনগণ শোকাহত ছিলেন। কিন্তু তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর সারা বাংলাদেশ নতুনভাবে জেগে উঠেছে। নতুন প্রত্যয়, নতুন চেতনা ও নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সংসদ সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন।” উত্তরবঙ্গের সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের প্রতি এ অঞ্চলের মানুষের বিশেষ আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামীকাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সে বিষয়ে নেতা–কর্মীদের সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান বলেন, “আগামীকালের জনসভা শুধু মাদ্রাসা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি রাজশাহী মহানগরজুড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হবে।” তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর দেশ এখন পরিবর্তনের পথে। জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছে। জনসভায় তারেক রহমান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরবেন।”
রাজশাহী–২ আসনের বিএনপির এই প্রার্থী আরও বলেন, “তারেক রহমান ইতিমধ্যে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্কদের জন্য হেলথ কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডসহ নানা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।” তিনি যোগ করেন, “শহীদ জিয়া যেমন বরেন্দ্র প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে সবুজ করেছিলেন, তেমনি তারেক রহমান আইটি প্রজেক্টের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবেন। রাজশাহীকে ভারতের হায়দরাবাদ বা স্টকহোমের মতো আইটি সিটিতে রূপান্তর করা হবে।” পাশাপাশি চারটি স্পেশালাইজড ইপিজেড স্থাপন ও হারানো রেশমশিল্প পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনসভায় রাজশাহীর ১৩টি আসনসহ উত্তরবঙ্গের মোট ৩৯টি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, “প্রায় ২২ বছর পর তারেক রহমান রাজশাহীতে আসছেন। ২০০৪ সালে স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কর্মী সম্মেলনের পর এটিই তাঁর সবচেয়ে বড় সমাবেশ।” নিরাপত্তাজনিত কারণে যাতায়াতের রুট প্রকাশ করা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “তবে আগামীকাল দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে তিনি জনসভায় উপস্থিত হবেন বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।”