
পদত্যাগের পর থেকে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা না করে নীরব থাকতে তাকে সতর্ক করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসনূভা জাবিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্ট ও টেলিভিশন টকশোর বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি টেলিভিশন টকশোর ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘পদত্যাগের পর থেকে আমাকে সবাই সাবধান করছে বিএনপি-জামায়াত কারো সমালোচনা না করতে, চুপচাপ থাকতে, বেশি বিপ্লবী না হতে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া আমারে কেউ থামাতে পারবে বলে মনে হয় না।’
শেয়ার করা ভিডিওতে তাসনূভাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার দুঃখের জায়গা হচ্ছে যে ওই সড়কটাকে তারা বাস্তবায়নের রুপই দিল না, এক ধরনের প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দিল, তাহলে সেগুলো ফাঁকাবুলি ছিল কিনা। যখন আপনার মুখের কথা এবং কাজের মধ্যে বিস্তার ফারাক থাকবে তখন আর আপনি পুরোনোদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারবেন না।’
বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার বহিষ্কার প্রসঙ্গে তাসনূভা বলেন, ‘আমি জানি না রুমিন আপার দলীয়ভাবে কী সমালোচনা বা আলোচনা, ঠিক খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই কেন তাকে বহিষ্কার করতে হবে? আমি জানি না সেটা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকটা হওয়ার পরও এটা হতে পারত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের উদাহরণ খুব একটা ভালো বার্তা আমাদের দেয় না। পর্দায়র আড়ালে উনার যতই সমালোচনা থাকুক কেন, পর্দার সামনে উনি কিন্তু বিএনপিকেই রিপ্রেজেন্ট করেছেন।’ একই বক্তব্যে তিনি গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আসা নারীদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘একইভাবে আমি গণ-অভ্যুত্থানের পরে যেসব নারীরা রাজনীতিতে এসেছে তাদের যতটা না দল; যেমন আমি পদত্যাগ করার পর সবচেয়ে যে কথাটা বেশি শুনছি সেটা হলো–আমি একটা ব্যানার ব্যবহার করে পরিচিতি পেয়েছি।’
নিজের রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর আমি সেলফিসের মতো সড়ে এসেছি। আমরা কিন্তু এই ৯ মাস এই ব্যানারটাকে নিয়েই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, আমি কিন্তু তাজনূভা হয়ে যাইনি। আমি এনসিপির তাজনূভা হয়ে গিয়েছি। আমি এনসিপির কথা বলেছি তাজনূভার কথা বলিনি। সো আমরা কিন্তু সেই নতুন কথাটি বলেছি।’
নারীদের রাজনৈতিক ভূমিকা ক্রমে কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সাবেক এই নেত্রী বলেন, ‘আমরা যখন এইটা এস্টাব্লিশড করতে পারব না এবং ঠিক সেটা গণ-অভ্যুত্থানের পরের বছরে, যেটাতে এতগুলো নারী অংশ নিয়েছে, জীবন দিয়েছে। এ ছাড়া সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ১৮ জুলাই মেয়েদের রোকেয়া হল ভেঙে নামাটা; সবাই বলবে এরা নামার পরেই গণ-অভ্যুত্থানটা সফল হবে, এটা সবাই ধরে নিয়েছিল। সেখান থেকে নারীদের মাইনাস করতে করতে এখন একিবারেই নাই।’
মনোনয়ন ও নারী প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এরপরে বড় রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি মনোনয়ন দেবে সেটা নানা দর কষাকষির মধ্য দিয়ে, বাজারের দর কষাকষির মতো ঠেকল যে ৫ শতাংশ দেবে। এখন সব রাজনৈতিক দল মিলেও কিন্তু ৫ শতাংশ নারী দেয় নাই, ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর মধ্যে স্বতন্ত্র অনেককে। জারা স্বতন্ত্র করছে, রুমিন আপা স্বতন্ত্র করছে। কিন্তু তারা কিন্তু নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে দলীয়ভাবে পরিচিত হয়েছে।’ একই সঙ্গে নারী ভোটারদের গুরুত্ব তুলে ধরে তাসনূভা বলেন, ‘সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ৬ কোটি ভোটার হচ্ছে নারী। বাংলাদেশে শতকরা ৫২ শতাংশ ভোটার হচ্ছে নারী।’
শেষদিকে তিনি বলেন, ‘তাহলে একটা রাজনৈতিক দল কোনো নারীকে মনোনয়নই দেয় নাই এবং বাংলাদেশের এই অর্ধেক জনগোষ্ঠী নিয়ে তাদের কী পলিসি, কী চিন্তা, ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টার একটা অবাস্তবিক কথা, এটা ছাড়া আপনারা আর কোনোকিছুই দেখাতে পারছেন না। কিন্তু আপনার সবাই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিজেরা নিজেদের সাথে অল ম্যান শো এটাতে আপনারা শতভাগ পারফর্শ করছেন। আমার মনে হয় এটাতে তারা এক।’
তাসনূভার ভাষায়, ‘আমরা যখন নতুন কিছুর কথা বললাম এটাতেও চরমভাবে ব্যর্থ। কারণ যে কয়টা নারী মুখ গণঅভ্যুত্থানে পরিচিত হয়েছিল প্রত্যেকেই কিন্তু ওই পুরোনো সিস্টেমের কাছেই বলি হলো।’