
দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ চারজন এবং সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিতেই তার এই সফর।
জেলা বিএনপির আয়োজনে আগামী সোমবার ১২ জানুয়ারি রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দলীয় সূত্র জানায়, সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার সর্বত্র ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্য। অনুষ্ঠানস্থল সাজানোসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়াই তারেক রহমানের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। সফরের প্রথম দিন সোমবার রাতে তিনি শহরের বুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করবেন।
পরদিন মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন। দোয়া মাহফিল শেষে তিনি পঞ্চগড় জেলার উদ্দেশে রওনা হবেন।
নেতার এই আগমনকে জেলা বিএনপি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতার উপস্থিতি সংগঠনকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ১২ জানুয়ারি রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। বাই রোডে আসায় নির্দিষ্ট সময় এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি রাতে বুরো বাংলাদেশ গেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন সকালে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে বড় মাঠে দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন।
তিনি বলেন, চার শহীদের কবর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হওয়ায় তিনি শহীদ আল মামুনের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দোয়া মাহফিলে প্রায় এক ঘণ্টা সময় দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।
পয়গাম আলী আরও বলেন, নেতার আগমন উপলক্ষে আমরা একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছি এবং প্রশাসনকে নিরাপত্তার বিষয়ে অবগত করেছি। দীর্ঘদিন পর তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। এর আগে, ২০০৩ সালে শীতকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এখানে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি, তার আগমনে ঠাকুরগাঁওবাসী অত্যন্ত আনন্দিত হবে। নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত। নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে বড় জনসভার সুযোগ না থাকলেও দেশনেত্রীর স্মরণে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস গণমাধ্যমকে বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের দায় এখনো শেষ হয়নি। তারেক রহমানের আগমন সেই দায় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি সবসময় শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থেকেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ে এসে সেটারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে যাচ্ছেন।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস গণমাধ্যমকে বলেন, তারেক রহমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। শহীদদের কবর জিয়ারত ও দেশনেত্রীর স্মরণসভায় তার উপস্থিতি প্রমাণ করে-বিএনপি কখনো ত্যাগ ও ইতিহাস ভুলে যায় না। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ নতুন করে আশার বার্তা পাবে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।