
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠনের ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর এ ধরনের পরিস্থিতি আর থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
গতকালের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারা শ্রমিক নন। ১৫ থেকে ২০ জন লোক গিয়ে একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। অথচ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিভিন্ন ফেডারেশনের নেতা ও প্রতিনিধিরা সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমেও শ্রমিকদের আহ্বান জানিয়েছেন, সরকার রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেবে। তাই শ্রমিকদের কারখানায় অবস্থান করার কথা ছিল।
মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার পরই মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রোববার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারখানায় অযথা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের কারখানা থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়ার পর বলা হচ্ছে, মজুরি বোর্ডের ঘোষণা এখনো আসেনি।
তিনি আরও বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে তাঁর ধারণা। এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণ ও শ্রমিকেরা বিষয়টি বুঝতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, কোনো একটি বিষয়কে সামনে রেখে অন্য কোনো গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ, শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সচেতন থাকলে এ ধরনের উদ্দেশ্য সফল হবে না।
আজকের ঘটনার পর সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আজ মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর এ ধরনের পরিস্থিতি আর থাকবে না, ইনশাআল্লাহ।’