
শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার অর্থ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে এ খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ দিনেই দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অতীতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে দিনটি উদ্যাপন করা হলেও এবার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সারাদেশের ৩৬ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং প্রায় ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মসূচির সব কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও সময়ের স্বল্পতায় তা করা যায়নি। পরবর্তী ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অবসর ও কল্যাণ ভাতার বাকি অর্থ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ওঠা প্রশ্নের জবাবে আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ খাতের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৫৫৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা হয়েছিল। এসব ব্যাংক থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও জানান তিনি।
তবে সরকারি ব্যাংকগুলোতে এ খাতের কিছু অর্থ এখনো রয়েছে এবং সেগুলো ফেরত আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করা ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশ চাঁদ এবং সরকারের দেওয়া বন্ডের অর্থ মিলিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার জন্য একটি সম্পদভিত্তি গড়ে উঠেছে। এর আওতায় প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধাভোগীকে কল্যাণ ও অবসর ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী বছর অবশিষ্ট অর্থও পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষকদের অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন। একজন শিক্ষক তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে ব্যয় করেন। তাই অবসরে যাওয়ার সময় তাঁদের যথাযথ সম্মান জানানো এবং বিদায় সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।