
স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব ছাড়ার পর আজ রোববার (২৬ জুলাই) বঙ্গভবন ত্যাগ করছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সরকারি বাসভবন ছেড়ে তিনি সপরিবারে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন। এ জন্য গত কয়েক দিন ধরে বঙ্গভবন থেকে তার ব্যক্তিগত মালামাল গুলশানের বাসায় স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও সম্পন্ন হয়েছে।
দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী শিগগিরই সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যাবেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ রোগে ভুগছেন। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ হওয়ায় তাকেও সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি বঙ্গভবনে বসবাস করবেন না। স্পিকারের সরকারি বাসভবন থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বঙ্গভবনে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই শুক্রবার থেকে তার সরকারি বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আজ সকালে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানাবেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে এবং ওই অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তাই এ মুহূর্তে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের প্রয়োজন নেই।
এদিকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাসময়ে দলের অবস্থান জানানো হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এক অনুষ্ঠানে বলেন, ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কোনো রাজনৈতিক কারণ দেখছেন না।