
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর প্রায় পাঁচ মাস পার হলেও সামরিক অভিযানের পক্ষে মার্কিন জনগণের উল্লেখযোগ্য সমর্থন আদায় করতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন জনমত জরিপের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আধুনিক ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বড় যুদ্ধগুলোর তুলনায় একই সময়ে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন সবচেয়ে কম।
সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আফগানিস্তান ও ইরাকে সামরিক অভিযান শুরুর সময় মার্কিন জনগণের বড় অংশ যুদ্ধকে সমর্থন করেছিল। যদিও সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থন কমেছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই সমর্থনের হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম এবং কয়েক মাস পেরিয়েও তাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। গ্যালাপের এক জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৯৩ দিন পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিনি। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪০ শতাংশ যুদ্ধের পক্ষে থাকলেও ৫৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন পোস্ট-ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ পরিচালনার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে ২৯ শতাংশে। ওই জরিপে অংশ নেওয়া ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল না।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অতীতের অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো যুদ্ধ শুরুর পর জনপ্রিয়তার বাড়তি সুবিধা পাননি ট্রাম্প। বরং সংঘাত শুরু হওয়ার পর তার জনসমর্থন আরও কমেছে। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে তার অনুমোদনের হার ছিল ৪০ শতাংশ, যা পরে কমে ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কম থাকার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সরাসরি কোনো হামলার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়নি। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা জনমতকে প্রভাবিত করেছে। এ ছাড়া দেশটির তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনও যুদ্ধ-সংক্রান্ত অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে বিভক্ত করেছে।
গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ ইরান অভিযানের পক্ষে থাকলেও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এ হার ২৬ শতাংশ। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ না থাকায় যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও গভীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: নিউজউইক