
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির বিবেককে চিরকাল নাড়া দেবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হলে নিজের মধ্যেই অপরাধবোধ কাজ করে। তাদের এই ত্যাগের ইতিহাস কখনো বিস্মৃত হওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদদের স্বজনদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে গভীর বেদনার অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাই সেই ইতিহাস সংরক্ষণ ও স্মরণ করা জরুরি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র গঠনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। হতাশার কোনো কারণ নেই, কারণ দেশের মানুষ পরিবর্তন ঘটানোর সক্ষমতা রাখে।
বিএনপি মহাসচিবের দাবি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়েই দেশে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পথ তৈরি হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং ভিন্নমত দমনে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পথ অনুসরণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে ধারাবাহিক আন্দোলন করে এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনও হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশা ও স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ বছরের লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ধ্বংসযজ্ঞ অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তারপরও রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।