
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিকে ঘিরে বিশ্বকাপ ফাইনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। কঠোর তল্লাশি ও দীর্ঘ নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার কারণে ম্যাচ শুরুর আগেই ৮২ হাজার ৫০০ টিকিটধারী দর্শকের সবাই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালকে ঘিরে নিউইয়র্কের এই ম্যাচকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। কারণ, ম্যাচটি মাঠে বসে উপভোগ করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশকারী প্রত্যেক দর্শককে বিমানবন্দরের আদলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ম্যাচ শুরুর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগে থেকেই আকাশে হেলিকপ্টার টহল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে হাজারো সিক্রেট সার্ভিস সদস্য।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকেই ম্যাচসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও সাংবাদিকদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সকাল ৯টায় গেট খোলার সময় সেই লাইনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অপেক্ষা করছিলেন। স্টাফদের জন্য নির্ধারিত একমাত্র প্রবেশপথে মাত্র দুজন কর্মকর্তা অ্যাক্রেডিটেশন যাচাই করছেন। এরপর ছয়টি নিরাপত্তা স্ক্যানার অতিক্রম করে প্রত্যেককে আবার পৃথকভাবে দেহ তল্লাশির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এই নিরাপত্তা প্রক্রিয়া থেকে তারকা ব্যক্তিত্বরাও ছাড় পাচ্ছেন না। জার্মান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাজেন্টা’র বিশ্লেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপকেও দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
আয়োজকদের ধারণা, ম্যাচের আগে হাজার হাজার দর্শক একসঙ্গে স্টেডিয়ামে পৌঁছালে নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার কারণে প্রবেশে আরও বিলম্ব হতে পারে। ফলে খেলা শুরুর আগেই সব টিকিটধারী দর্শক নিজ নিজ আসনে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারি হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এ করে স্টেডিয়ামে পৌঁছাবেন। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফিও তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান