
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা বা অনুসন্ধানী তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এতে সরকার উপকৃত হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এই জাতির মধ্যে চিন্তার জগত রয়েছে। সরকারের ভুলত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরবেন এবং ধরিয়ে দেবেন। সরকার এসেছে অল্প কিছুদিন হয়েছে, তাই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো পরিপক্বতা এখনো আসেনি।”
তিনি বলেন, “আগের সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে আমরাও শিক্ষা নিয়েছি। এর আগে আমরাও বারবার ক্ষমতায় ছিলাম। ভুল এবং প্রশংসা—দুটিই আমাদের আছে।”
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তন এবং গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে চলার বিষয়টি আমরা দেখেছি। খারাপ কাজ করলে কতটা নির্মম ও অপমানজনক পরিণতি হতে পারে, সেটিও আমাদের ভাবনায় রয়েছে। যার মধ্যে সামান্য চিন্তা-চেতনা আছে, তিনি সেখান থেকে শিক্ষা নেবেন।”
তিনি আরও বলেন, সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সবসময়ই ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। সরকার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নির্যাতিত সাংবাদিক ও গুম-হত্যার শিকারদের ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিতে একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজ চলছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের ভাতা ও বিজ্ঞাপনের নীতিমালা প্রণয়নেও কাজ করা হচ্ছে।
আলোচনা সভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কার একটি চলমান ও অব্যাহত প্রক্রিয়া এবং অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সংস্কার অপরিহার্য।
তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা আরও বেশি প্রকাশ পেয়েছে। সংস্কার কোনো স্থির বিষয় নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে মানবদেহে রক্ত সঞ্চালনের মতো ভূমিকা রাখে।”
ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশের সংস্কারের ইতিহাস দীর্ঘদিনের এবং স্বাধীনতার পর থেকেই অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।