
ভারত থেকে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা যাত্রীসেবা উন্নয়নে নতুন গতি আনবে। ভারত থেকে কোচগুলো আসা শুরু হলে প্রাপ্তির ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ রুট চূড়ান্ত করবে। সরকারের লক্ষ্য, আধুনিক কোচের মাধ্যমে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী ও আরামদায়ক করা—বলে জানিয়েছেন, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব কোচ রেল বহরে যুক্ত হবে।
মন্ত্রী জানান, নতুন কোচ যুক্ত হলে সারা দেশে নতুন ট্রেন চালু ও রুট সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। সংসদে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা-কমলাপুর থেকে ফরিদপুর, রাজবাড়ী হয়ে মধুখালী ও গোপালগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেলপথে ট্রেন চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে নতুন কোচ ও ইঞ্জিন সরবরাহের ওপর।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী রেলওয়ের বর্তমান সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদিও বনলতা এক্সপ্রেসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াত সম্ভব, তবুও পশ্চিমাঞ্চলে ইঞ্জিন, কোচ ও জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে।
এই সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯টি মেইল/কমিউটার ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও ক্রু না থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি পণ্যবাহী ট্রেন পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে নতুন কোচ যুক্ত হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, রেল খাত আধুনিকায়নে সরকার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াও জোরদার করা হচ্ছে।