
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আগমন উপলক্ষে র্যাগিংয়ের বিষয়ে জিরো টলারেন্স জারি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়াও র্যাগিং, বুলিংসহ নানা ধরনের হয়রানি বন্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, ছাত্র পরামর্শক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
মতবিনিময় সভায় প্রক্টর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি শারীরিক, মানসিক, মৌখিক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সকল প্রকার র্যাগিং, বুলিং, বডিশেমিং, ইভটিজিং থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের র্যাগিং, বুলিং, বডিশেমিং কিংবা ইভটিজিং এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ছাত্র পরামর্শক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীকে ম্যানার শেখানো অন্য কোনো শিক্ষার্থীর দায়িত্ব না। কোনো শিক্ষার্থীকে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি এমন কোনো কিছু করা হয় যার কারণে সে অস্বস্তি বোধ করে, সেটা র্যাগিং হিসেবে গণ্য করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিং এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সকল স্টেক হোল্ডারদের প্রতি অনুরোধ থাকবে তারা যেন সকলে সহযোগিতা করেন। সকলের সহযোগিতায় আমরা একটি র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে চাই।'
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, ' বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। যদি র্যাগিং এর মতো কোনো শারীরিক ও মানসিক হ্যারেসমেন্টের ঘটনা ঘটে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
উল্লেখ্য, র্যাগিং প্রতিরোধে ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অনুষদের ডিনদের সঙ্গে, ৭ এপ্রিল বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে এবং ৮ এপ্রিল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।