.png)
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে বিপন্ন প্রজাতির করাত মাছ (Largetooth Sawfish) এর করাত ও প্রায় ১৫০ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২ এপ্রিল) মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ বন্দরবাজারে সামাজিক বন বিভাগ, বাগেরহাট, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, ক্রয়-বিক্রয়ে শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করা হয় এবং বন্য ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
উদ্ধারকৃত করাত ও ২-৩ কেজি হাড়সহ মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে বাকি অংশ মঠবাড়িয়া থানা সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড চত্বরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। নমুনাগুলো গতকাল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার প্রতিনিধির মাধ্যমে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, করাত মাছ(Largetooth Sawfish) বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর ও বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর লম্বা, করাতের মতো দাঁতযুক্ত মুখ (রোস্ট্রাম), যা দেখতে অনেকটা করাতের ব্লেডের মতো।
করাত মাছ সাধারণত ৬ থেকে ৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর শরীর হাঙরের মতো হলেও এটি আসলে রে (ray) প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। মুখের দুই পাশে ধারালো দাঁতের মতো অংশ থাকে, যা শিকার ধরতে ও আত্মরক্ষায় ব্যবহার করে।
এই মাছ সাধারণত উষ্ণ উপকূলীয় সাগর, মোহনা এবং কখনও কখনও নদীতেও পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার কিছু অঞ্চলে এদের উপস্থিতি ছিল। একসময় বাংলাদেশ এর উপকূলীয় এলাকাতেও এদের দেখা মিলত।
করাত মাছ মূলত ছোট মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণী খায়। শিকার করার সময় এটি তার করাতের মতো মুখ দ্রুত নেড়ে মাছকে আঘাত করে অচেতন করে ফেলে, তারপর খেয়ে ফেলে।
বর্তমানে এই প্রজাতিটি মারাত্মকভাবে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিরিক্ত শিকার, জালে আটকে পড়া এবং আবাসস্থল ধ্বংস—এই তিনটি প্রধান কারণে এদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘Critically Endangered’ হিসেবে তালিকাভুক্ত। বিভিন্ন দেশে করাত মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন International Union for Conservation of Nature (IUCN) এই প্রজাতি রক্ষায় কাজ করছে।