
সচিব পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান) হিসেবে চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন আন্তর্জাতিক গবেষক ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগের তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ড. শাকিরুল ইসলাম অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে বহাল থাকবে।
ড. শাকিরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক মানের ১৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তিনি জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটি এবং এহিমে ইউনিভার্সিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বর্তমানে জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অফ মেডিসিনের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ফুল ফ্যাকাল্টি হিসেবে যুক্ত আছেন এবং ‘রিসার্চ সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজ’-এর সঙ্গে যুক্ত।
তিনি ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, হেপাটাইটিস, কোভিড-১৯, জলাতঙ্ক ও নিপাহ ভাইরাসসহ উদীয়মান সংক্রামক রোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন। এছাড়া গুণমানসম্পন্ন পোলট্রি ও গবাদি পশু উৎপাদন ও সংরক্ষণেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
২০০৯ সালে জাপানের এহিমে ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি এই সম্মাননা পান ‘গ্রেড এ+’ এর সাথে। ২০০৬ সালে এহিমে ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি মাস্টার অফ সায়েন্স (জাইকা স্কলার) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি এই সম্মাননা পান ‘গ্রেড এ+’ এর সাথে। ২০০৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার অফ সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন। এরআগে ২০০০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রথম শ্রেণিতে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন।
ড. শাকিরুল ইসলাম খান ২০২১ সাল থেকে জাপানের ওইতা ইউনিভার্সিটির ‘রিসার্চ সেন্টার ফর গ্লোবাল অ্যান্ড লোকাল ইনফেকশাস ডিজিজ’ এর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে ফুল ফ্যাকাল্টি হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি জাপানের এহিমে ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি এহিমে ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়াতেও রিসার্চ ফেলো ছিলেন। ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড. শাকিরুল ইসলাম খান ৩০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট ছাত্রের গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তার ১৫০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র এবং প্রবন্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের পিআর রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও, ড. শাকিরুল ইসলাম খান ‘গোল্ড মেডেল,’ ‘সেরা গবেষক পুরস্কার” এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে গবেষণার জন্য অসংখ্য বিশেষ সম্মাননা ও অনুদান পেয়েছেন।