
দেশে বনভূমির দখল রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন বিধানে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার ক্ষেত্রে কঠোর আর্থিক জরিমানা করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা গেজেট আকারে এ অধ্যাদেশ প্রকাশ করেছে। আজ বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যাদেশের নাম ‘বনভূমির ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বনভূমির দখল প্রতিরোধ, বন ও বনভূমি সংরক্ষণ, বনভূমির হ্রাস রোধকল্পে এবং বৃক্ষ সংরক্ষণে বিধানকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এনিয়ে বিধান অনুযায়ী, সরকারি বা গণপরিসরের যে কোনো গাছ কাটার জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি বাধ্যতামূলক। ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির বিশেষ প্রজাতির গাছ কাটার ক্ষেত্রেও বন বিভাগের অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
অধ্যাদেশে উল্লেখিত শাস্তির বিধানসমূহ:
সরকারঘোষিত ‘কর্তন নিষিদ্ধ’ তালিকার কোনো গাছ অনুমতি ছাড়া কাটলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা।
সাধারণ অনুমতিসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত গাছ অনুমতি ছাড়া কেটে ফেললে ৫০ হাজার টাকা, গাছের গায়ে পেরেক বা ধাতব বস্তু লাগিয়ে ক্ষতিসাধন করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা।
সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা যদি আইন লঙ্ঘন করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের ক্ষমতা আদালতকে প্রদান করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় প্রয়োজনের কারণে বনভূমি বন-বহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, বন সীমানা নির্ধারণ ও দখলদার উচ্ছেদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং এবং বন বিভাগের বিশেষ ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা রাখা হয়েছে। যেমন, রোগাক্রান্ত, মৃত, ঝড়ে পড়া বা জননিরাপত্তার হুমকিস্বরূপ ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ কাটার জন্য আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না। এছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত বন অধিকার রক্ষা করা হবে।
নতুন এই অধ্যাদেশ Forest Act, 1927 এর পরিপূরক হিসেবে কার্যকর হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতিযোগ্য বৃক্ষের পূর্ণাঙ্গ তালিকা গেজেটে প্রকাশ করা হবে।