
নবম জাতীয় পে স্কেলের কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণে পে কমিশন তিনটি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে, যার মধ্য থেকে একটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত পে স্কেল–সংক্রান্ত পূর্ণ কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত আসে বলে কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
পে কমিশনের সভাপতি জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান, এনডিসি, মো. ফজলুল করিম, মো. মোসলেম উদ্দীন এবং সদস্যসচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ খণ্ডকালীন সদস্যরা অংশ নেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, বেতন কাঠামোর অনুপাত নির্ধারণে ১:৮, ১:১০ ও ১:১২—এই তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার পর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের অনুপাত হিসেবে ১:৮ গ্রহণের বিষয়ে একমত হন কমিশনের সদস্যরা।
একই বৈঠকে সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ নিয়েও তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। তবে বিষয়টি পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
সর্বনিম্ন বেতন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রথমটিতে ২১ হাজার টাকা বেতন স্কেল প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ১৭ হাজার টাকা এবং তৃতীয় ও শেষ প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
১:৮ অনুপাতের অর্থ হলো সরকারি পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের পার্থক্য। জাতীয় বেতন কমিশনের মতামত ফরমের ১১ নম্বর প্রশ্নে প্রস্তাবিত পে স্কেলে এই অনুপাত কত হওয়া উচিত—সে বিষয়ে ১:৮, ১:১০, ১:১২সহ অন্যান্য বিকল্প দেওয়া হয়েছে।
এই অনুপাত মূলত সর্বনিম্ন গ্রেড (২০তম গ্রেড) ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনের তুলনাকে নির্দেশ করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন ১ টাকা ধরা হয়, তাহলে ১:৮ অনুপাতে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন হবে ৮ টাকা। একইভাবে, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন যদি ১০০ টাকা হয়, তবে ওই অনুপাত অনুযায়ী সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন দাঁড়াবে ৮০০ টাকা।