
ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো যাদের রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে, তাদের মুক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের একটি ‘শুভেচ্ছা নিদর্শন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শুক্রবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক আকস্মিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম দেশটিতে উল্লেখযোগ্য বন্দি মুক্তির ঘটনা ঘটল।
ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের’ স্বার্থে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্দিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হবে। তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই হলেও ঠিক কতজন বন্দি বা কারা মুক্তি পাচ্ছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
এদিকে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে তাদের পাঁচজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের একজন হলেন ভেনেজুয়েলা ও স্পেনের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী রোসিও সান মিগুয়েল। তার পরিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ধারণা, ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন কারাগারে এখনো শত শত রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত অল্পসংখ্যক বন্দির মুক্তির খবরই সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের একটি প্রধান দাবি ছিল। বিশেষ করে নির্বাচন কিংবা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে দমন-পীড়ন বাড়লে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে চাপ জোরদার করত। মাদুরো পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করতেই বর্তমান সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি