
সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইথিওপিয়া সীমান্তের কাছে বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরের পাশে ড্রোন হামলায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৬ নারী ও চার শিশু রয়েছেন। শুক্রবারের এ হামলায় হতাহতের তথ্য এএফপিকে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলার জন্য দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করা হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্লু নাইল রাজ্যের আবু শেন্দি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরের কাছে হামলাটি হয়। নিহতদের দাফনে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানান, ২৬ নারী ও চার শিশুকে কবর দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শিবিরের বাইরে একটি অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণখনির কাছে ড্রোনটি আঘাত হানে। সেখানে পুরুষদের খনন করে তোলা মাটি থেকে রাসায়নিক ব্যবহার করে কিংবা হাতে বেছে স্বর্ণের কণা সংগ্রহ করেন নারীরা। দৈনিক মজুরির বিনিময়ে কাজ করা এসব নারীর মধ্যে পরিবারের সঙ্গে স্বর্ণ পরিশোধনের কাজে যুক্ত তরুণীরাও ছিলেন।
সুদানের স্বর্ণ বাণিজ্য দেশটির চলমান সংঘাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। অস্থায়ী খনির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা বহু বিলিয়ন ডলারের এ বাণিজ্য থেকে যুদ্ধরত দুই পক্ষই তাদের সামরিক তৎপরতা চালানোর অর্থ ও রসদ সংগ্রহ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াদ আল-মাহির গভর্নর মাহগুব আল-শেখের দাবি, ড্রোনটি ইথিওপিয়ার ভূখণ্ড থেকে ছোড়া হয়েছে। সুদান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইথিওপিয়া তাদের ভূখণ্ডে আরএসএফের যোদ্ধা ও ঘাঁটিকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে ইথিওপিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সীমান্ত উন্মুক্ত থাকায় অঞ্চলটি আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ত্রাণকর্মীদের ধারণা, সংঘাতে দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছর শুধু ব্লু নাইল রাজ্যেই প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সুদানের সংঘাত এখন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। ইথিওপিয়াও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জর্জরিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।