
যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পেয়েছেন তিনি। তবে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যায়। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ তেলজাত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ নেয়।
ট্রাম্প জানান, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে মস্কো।
এই সরবরাহ সহজ করতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে একটি সাময়িক লাইসেন্স জারি করেছে। রাশিয়ার ক্রেমলিনও যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক বাজারে তেল ও তেলজাত পণ্য সরবরাহে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। ক্রামাতোরস্কে একটি বাসে হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মিত্রদের কাছ থেকে এমন সিদ্ধান্ত সৎ বা যোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিকে দুর্বল বলেও সমালোচনা করেন।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশটির আর্থিক সংকট মোকাবিলায় মিয়ামিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের আলোচনা চলছে। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে এসব আলোচনায় সংকটের সমাধান খোঁজা হচ্ছে।