
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আগে রাতভর ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া শত শত ট্রেন বাতিল এবং দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকদের জন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লিতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।
শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং স্থানীয় ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ এলাকায় ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নয়াদিল্লি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অডিও রেকর্ডিং সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। এর কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো অতিক্রম করা কঠিন হয়।
লাউডস্পিকারে প্রচারিত ঘোষণায় জানানো হচ্ছে, বিক্ষোভের অনুমতি নেই। জমায়েত না করা, স্লোগান না দেওয়া, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না করার নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকে বিক্ষোভের অনুমোদন না থাকার তথ্য প্রচার করতে বলা হয়েছে। হোটেল ও লজগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের আচরণ নিয়ে আগের অভিযোগের পর এবার পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফারকে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ধারণের কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের আশা, এসব ভিডিও ও ফুটেজ ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই, অভিযোগের তদন্ত এবং বিভ্রান্তিকর দাবি যাচাইয়ে সহায়তা করবে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক জানিয়েছেন, বিধিনিষেধ সত্ত্বেও দলের স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা নিয়ে এগোবেন। পরিবহনব্যবস্থা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিক্ষোভের কারণে মানুষের অসুবিধার কথা বলা হলেও মেট্রো, রেল ও সড়কে বিধিনিষেধ আরোপে কি ভোগান্তি বাড়বে না?