-6ac91861c1ecc.webp)
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দেশটির নির্বাচন কমিশনারে পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনপথ ও কর্তব্য পথের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় টানা ২৪ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত বহাল থাকার কথা রয়েছে।
দিল্লি পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে রাজধানীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর কয়েকটি, যার মধ্যে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান ও খান মার্কেট উল্লেখযোগ্য।
এর আগে গত জুলাই মাসেও একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কৌশল আগেও প্রয়োগ করেছে কর্তৃপক্ষ।
জনদুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট
ইন্টারনেট বন্ধসহ কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে জনজীবন ব্যাহত হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। কিন্তু সে কারণে সবকিছু বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালত বলেছে, তরুণ থেকে প্রবীণ—সবারই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা এবং মৌলিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের এসব অধিকারও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আপত্তির পর সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধগুলো পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ, বাতিল ৬০টির বেশি ট্রেন
প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে গণপরিবহনে নেওয়া পদক্ষেপে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য থেকে দিল্লিগামী ৬০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়।
ইন্টারনেট বন্ধ, মেট্রো স্টেশনে প্রবেশে বাধা এবং ট্রেন বাতিলের মতো পদক্ষেপে রাজধানীর স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।