
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার যে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটি তিনি অনেকটা ‘মজার ছলে’ বলেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক বা আলোচনা করেননি বলেও জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ব্রায়ান শভার্টজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক উচ্চপদস্থ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তার বরাতে এসব তথ্য জানান।
নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন তিনি। ব্রায়ান শভার্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যটি দেওয়ার পর ট্রাম্প কিছুটা মৃদু হাসেন। তবে পরক্ষণেই তিনি বিষয়টিকে বাস্তব সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন।
ওই সমাবেশে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছে ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। তারা ট্রাম্পের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
শিপিং অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ১৬৬ দিনে প্রায় ৩ হাজার ৩৭১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক নৌযান চলাচলের প্রায় ২০ শতাংশের সমান।
এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। পরে ১৭ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য তৈরি হলে আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। এর পর ৮ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা ও পাল্টা হামলা চালায়।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এ জলপথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।