
এক দিন বাড়ানোর পরই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন দামে স্বর্ণের গহনা বিক্রি হবে। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাজুসের নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রাম ২০ হাজার ১১৫ টাকা। আগের দাম ছিল ২০ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ গ্রামপ্রতি কমেছে ১৮৫ টাকা। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরিতে এই কমার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ১৫৮ টাকা।
বৃহস্পতিবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ভ্যাটসহ ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। নতুন দরে একই পরিমাণ স্বর্ণের দাম হবে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে ভরিতে দাম কমল প্রায় ২ হাজার ১৫৮ টাকা।
শুক্রবার সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়াসহ সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী—
২২ ক্যারেট: প্রতি গ্রাম ২০ হাজার ১১৫ টাকা
২১ ক্যারেট: প্রতি গ্রাম ১৯ হাজার ২১০ টাকা
১৮ ক্যারেট: প্রতি গ্রাম ১৬ হাজার ৪৯৫ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি গ্রাম ১৩ হাজার ৪৭৫ টাকা
আগের দিনের তুলনায় ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম গ্রামপ্রতি ১৮০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১২৫ টাকা কমেছে।
স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হলেও রুপার মূল্য আগের অবস্থাতেই রাখা হয়েছে।
২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা রুপার দাম প্রতি গ্রাম ৪৩৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম প্রতি গ্রাম ২৭০ টাকা।
এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বাড়ানো ও কমানোর ঘটনায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দর কার্যকর হয়।
এর পরদিনই তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ার কথা জানিয়ে আবারও দাম সমন্বয় করা হলো। এতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের সাম্প্রতিক অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যায়। দিনের শুরুতে স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। পরে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি দাম। বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৩৭৪ দশমিক ০৩ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর স্বর্ণের দাম বাড়লেও পরে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং নতুন অর্থনৈতিক তথ্যের অপেক্ষায় বাজারে কিছুটা সংশোধন হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআরের তথ্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার ৩৭৪ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ২০ পয়সা ধরে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক স্পট দরে এক ভরি ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ২ হাজার টাকা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট মূল্য আর বাংলাদেশের খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া স্বর্ণের গহনার দাম এক নয়। আমদানি ও অন্যান্য ব্যয়, ভ্যাট, মজুরি এবং ব্যবসায়িক খরচ যুক্ত হওয়ায় দেশের বাজারে গহনার দাম তুলনামূলক বেশি থাকে।
আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের দামের পরিবর্তন অবশ্য দেশের বাজারেও দ্রুত প্রভাব ফেলছে। এ কারণে গত কয়েক মাসে একাধিকবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস।
স্বর্ণের দাম কমায় আপাতত ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের জন্য এই মূল্যহ্রাস কিছুটা হলেও সুবিধা দেবে।
তবে এক দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ানো ও কমানোর ঘটনায় বাজারের অস্থিরতাও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের মূল্যের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আবারও দাম পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্ধারিত মূল্য কার্যকর থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি নির্ধারিত হবে। নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে পুরোনো গহনা বিনিময় বা কেনাবেচার ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়মই বহাল থাকবে।