
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কঠোরভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার কোনো নজির বিশ্ব আগে দেখেনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আরও ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন। কারণ আমরা কোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ইতিহাসে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।’
তিনি জানান, ইরানকে এমন অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে ফেলা হবে, যা অতীতে কোনো দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধও অব্যাহত থাকবে। এর ফলে ইরানের বন্দর দিয়ে কোনো ধরনের পণ্য বা সামগ্রী প্রবেশ কিংবা বের হতে পারবে না।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে উত্তেজনা ঘিরে ইয়েমেনও নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ সাধারণ পরিষদকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব সংঘর্ষে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদেরও হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা মারিব, হাজরামাউত ও আল-মাখা (মোচা)সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী তাইজে হুথিদের একটি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। একই সঙ্গে বুধবার কয়েকটি গভর্নরেটে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে কামান ও ড্রোন হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে সরকার।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হুথিদের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক জবাব’ দেওয়া হবে।
তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিরা ফের হামলা শুরু করলে ইয়েমেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।