
প্রবল বন্যার ধাক্কায় ভারতের আসামে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। রাজ্যের পাঁচটি জেলায় এখনো বন্যার প্রভাব অব্যাহত থাকায় প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। শনিবার (১ আগস্ট) রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও ও চরাইদেও জেলা। তবে কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবারের তুলনায় সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এর আগে বন্যার কারণে দুই লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য রাজ্য সরকার একাধিক ত্রাণ ও সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বীমা কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, গবাদিপশু ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ দাবির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফসি) কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোলাঘাট, শিবসাগর ও নুমালিগড় এলাকায় দিখৌ ও ধানসিরি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে জনসাধারণকে ওইসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের ৫৪টি ত্রাণশিবিরে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ২৬টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫ হাজার ৩৮৪ জনকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় মেরামতকাজে দ্রুত অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শিবসাগর ও চরাইদেও জেলা থেকে নতুন করে একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে পৌঁছেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৯ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে চরাইদেও জেলা, যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন। এরপর রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩ হাজার ৪৯২ জন এবং জোরহাটে ৩৪ হাজার ৬৭ জন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের বীমা দাবির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী ৫ আগস্ট সরকারি ও বেসরকারি বীমা সংস্থাগুলোর সঙ্গে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
একই দিনে এনবিএফসিগুলোর সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট ও গোলাঘাট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।