
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটির দৈনিক উৎপাদন ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা চলতি মাসের শুরুতে ছিল ১ কোটি ৪৬ লাখ ব্যারেল।
সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
এর দুই দিন আগে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, শান্তি আলোচনায় অপ্রত্যাশিত অগ্রগতির কারণে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে পূর্বাভাসের তুলনায় তিন মাস কম সময় লাগতে পারে। যদিও পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন পাল্টাপাল্টি হামলার খবর এসেছে, তবুও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এখনো ইতিবাচক রয়েছে।
তবে রিস্টাড এনার্জির মতে, উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ যুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকা তেল উৎপাদন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে আসবে। বর্তমানে এ পরিমাণ প্রায় ৯৬ লাখ ব্যারেল, যা মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ব্যারেল। ফলে উৎপাদন দ্রুত পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিলছে।
রিস্টাড এনার্জির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (মেনা) অঞ্চলের গবেষণা পরিচালক আদিত্য সারস্বত বলেন, মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন আবার চালু হয়েছে এবং এই পুনরুদ্ধারের ধারা পুরো অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। তার ভাষ্য, ইরান সবচেয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, কারণ দেশটিতে উৎপাদন বন্ধ থাকার সময় তুলনামূলক কম ছিল এবং অবকাঠামোর ক্ষতিও সীমিত।
তিনি আরও জানান, কুয়েত ইতোমধ্যে সব ‘ফোর্স ম্যাজুর’ নোটিশ প্রত্যাহার করেছে এবং জুলাই মাসের আন্তর্জাতিক টেন্ডারে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিচ্ছে। একই সময়ে সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দর দিয়ে এ মাসে রেকর্ড ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পথে রয়েছে।
এদিকে ইরানের তেল উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশটির দৈনিক উৎপাদন ২৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। আগস্টের মধ্যে তা ৩১ লাখ এবং বছরের শেষ নাগাদ ৩৩ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের উৎপাদন বৃদ্ধির ভবিষ্যৎ অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। ওয়াশিংটন যদি আগস্টের পরও ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখে, তাহলে নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।